এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সরকারের পাঁচ উদ্যোগ

সম্প্রতি দেশজুড়ে বৈরী আবহাওয়া ও জলাবদ্ধতা নিয়ে চলমান উদ্বেগ এবং পরীক্ষা পেছানোর দাবির মধ্যে সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে কিছু অত্যন্ত শিক্ষার্থীবান্ধব ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের অন্য সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে ২ হাজার ৫৮৩টি কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল স্বস্তিদায়ক।

বুধবার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জানান, সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, তা নিরসনে সরকার শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক ক্ষতি এড়াতে এবং তাদের মানসিক স্বস্তি দিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে:

১. সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত ও সুষ্ঠু পরীক্ষা পরিচালনা

সারাদেশে পরীক্ষা সচল রাখার বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে জরুরি আলোচনা করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাবর্ষের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে, সবার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কেবল অতি বন্যা কবলিত চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি সব স্থানে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২. স্থানীয় প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো এলাকায় যদি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হয় কিংবা কেন্দ্রগুলোতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিবর্তন, সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত বা পরীক্ষার সময় বাড়ানোর মতো যেকোনো জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

৩. অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগ

যেসব শিক্ষার্থী প্রতিকূল আবহাওয়া বা অন্যান্য অনিবার্য কারণে চলমান পরীক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অংশ নিতে পারেনি, তাদের শিক্ষা জীবন রক্ষায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সাথে একই অভিন্ন প্রশ্নপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঘোষিত নতুন তারিখ ও সময়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে করে কোনো শিক্ষার্থীরই বছর নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

৪. ভুল প্রশ্নের জন্য ‘ফুল মার্কস’

পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় দুটি প্রশ্ন ভুল থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে সরকার। শিক্ষার্থীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে এই দুটি ভুল প্রশ্নের বিপরীতে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর (ফুল মার্কস) দেওয়া হবে।

৫. ভুল প্রশ্ন প্রণয়নকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মতো দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সাথে জড়িত ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি পরীক্ষা কেবল একটি সাধারণ মূল্যায়ন নয়; এটি আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কারিগরদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। সে কারণেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সংবেদনশীলতার সাথে এই পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তসমূহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *