মূল্যস্ফীতির উদ্বেগে বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

গের সেশনেই দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে যাওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববাজারে আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যস্ফীতির উপাত্ত প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে এই পরিস্থিতি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার আরও বৃদ্ধির পূর্বাভাসকে আরও জোরালো করেছে। খবর রয়টার্সের। 

আজ বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩.৯৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০.৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত সেশনে স্বর্ণের দাম এক দিনেই প্রায় ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল, যা ছিল গত এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বড় দরপতন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমাগত সামরিক সংঘাতের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছানোতেই স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।

সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সুদের হার বৃদ্ধি পেলে এই অনুৎপাদনশীল ধাতুটি ধরে রাখার আগ্রহ কমে যায়। কারণ তখন সুদ বহনকারী অন্যান্য আর্থিক সম্পদ বিনিয়োগকারীদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘টেস্টিলাইভের’ গ্লোবাল ম্যাক্রো প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, বর্তমানে বাজার পরিস্থিতি এমন যে বিনিয়োগকারীরা এখনই বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছেন না। তাদের সামনে বেশ কিছু বড় ধরনের ঝুঁকির পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে ফেড প্রধান কেভিন ওয়ারশের প্রথম অর্ধ-বার্ষিক কংগ্রেসীয় সাক্ষ্য এবং ভোক্তা মূল্য সূচক প্রকাশের বিষয় রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক খবরের পাশাপাশি এই অর্থনৈতিক সূচকগুলোর দিকেই সবার গভীর নজর রয়েছে।

আজকের দিনের শেষভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের সিপিআই উপাত্ত প্রকাশিত হবে, যা থেকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে প্রডিউসার প্রাইস ইনডেক্স উপাত্তের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

ফেডারেল রিজার্ভের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার গত সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, যদি আসন্ন উপাত্তগুলোতে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের অনেক ওপরে থাকে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘নিকটবর্তী সময়েই’ সুদের হার আরও বাড়াতে হতে পারে। এই মন্তব্যের পর আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে গেছে। শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জের ‘ফেডওয়াচ টুল’ অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এক সপ্তাহ আগের ৫৭ শতাংশ থেকে লাফিয়ে এখন প্রায় ৭৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হলেও আজ স্পট সিলভার বা রূপার দাম ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭.৬০ ডলারে নেমেছে, যা সেশনের শুরুতে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে ছিল। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৯৭.৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৫৪.৮২ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *